দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তারিকুল ইসলাম ওরফে তারিফ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই আবদুল কুদ্দুস মাখন।
বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আবদুল কুদ্দুস মাখন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর ভাই শরিফুল ইসলাম সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের হরেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জমি-সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের নাম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবদুল কুদ্দুস মাখন বলেন, এলাকায় থাকতে ও ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে—এমন কথা বলে তাঁর ভাইয়ের কাছে টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর বাজারে মামার বাড়ি নামের একটি টক-মিষ্টির দোকানের সামনে শরিফুলের ওপর হামলা চালানো হয়। উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তারিফের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আরিফসহ ১২-১৩ জন হামলায় অংশ নেন বলে দাবি করেন তিনি।
আবদুল কুদ্দুস মাখন বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে শরিফুলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে কয়েকজন তাকে লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। এ সময় তারিফ রড দিয়ে শরিফুলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হামলার সময় শরিফুলের একটি এফজেড মোটরসাইকেল, একটি আইফোন ও একটি রেডমি মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
আবদুল কুদ্দুস মাখন বলেন, তাঁর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করায় তারা উদ্বিগ্ন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরের কাছেও যুবদল নেতা তারিফ মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে টাকা চেয়েছিলেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয় বলে জানান চেয়ারম্যান।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তারিকুল ইসলাম ওরফে তারিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ভাত খাইতেছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, উপজেলা যুবদল কমিটির কাছে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/